বীর্যপাত বন্ধ রেখে কিভাবে যৌন মিলন করার উপায়?পদ্ধতি জেনে নিন

যৌন মিলন করার উপায়

স্বামী স্ত্রী পবিত্র মিলনের মাধ্যমে সুখ লাভ করে। ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মিলনকে বেহেশতের সুখের সাথে তুলনা করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে ও প্রামণিত যে অধিক সময় যাবত্‍ যৌন মিলন অত্যন্ত সুখের। তবে এই আনন্দ তখনই মাটি হয়ে যায় যখন দ্রুত বীর্যপাতন হয়ে যায়। অধিক সময় ধরে যৌন মিলন করার জন্য আপনার ডক্টর তিনটি পদ্ধতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। আজকে আপনারা এই আর্টিকেলের পড়ে জানতে পারবেন সঠিক পদ্ধতিতে যৌন মিলন করার উপায়।


মিলনে পুরুষের অধিক সময় নেওয়া পুরুষত্বের মুল যোগ্যতা হিসাবে গন্য হয়। যৌন মিলন করার উপায় শিখে রাখলে যেকোন পুরুষ বয়সের সাথে সাথে সহবাসের নানাবিধ উপায় শিখে থাকে।


এখানে বলে রাখতে চাই ২৫ বছরের কম বয়সী পুরুষ সাধারনত অধিক সময় নিয়ে সহবাস করতে পারেনা। তবে তারা খুব অল্প সময় ব্যবধানে পুনরায় উত্তেজিত/উত্তপ্ত হতে পারে। ২৫-এর পর বয়স যত বাড়বে সহবাসে পুরুষ তত অধিক সময় নেয়। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পুনরায় জাগ্রত (ইরিকশান) হওয়ার ব্যবধানও বাড়তে থাকে।


তাছাড়া এক নারী কিংবা এক পুরুষের সাথে বার বার সহবাস করলে যৌন মিলনে অধিক সময় দেয়া যায় এবং সহবাসে বেশি তৃপ্তি পাওয়া যায়। কারন স্বরূপ: নিয়মিত সহবাসে একে অপরের শরীর এবং ভাল লাগা কিংবা মন্দ লাগা, পছন্দসই আসনভঙ্গি, সুখ দেয়া নেয়ার পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত থাকে।

সঠিক পদ্ধতিতে যৌন মিলন করার উপায়ঃ


পদ্ধতি ১: চেপে/টিপে (স্কুইজ) ধরা:


অধিক সময় ধরে যৌন মিলন করার এই পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেছেন মাষ্টার এবং জনসন নামের দুই ব্যাক্তি। চেপে ধরা পদ্ধতি আসলে নাম থেকেই অনুমান করা যায় কিভাবে করতে হয়? যখন কোন পুরুষ মনে করেন তার বীর্য প্রায় স্থলনের পথে, তখন সে অথবা তার সঙ্গী লিঙ্গের ঠিক গোড়ার দিকে অন্ডকোষের কাছাকাছি লিঙ্গের নিচের দিকে যে রাস্তা দিয়ে মুত্র/বীর্য বহিঃর্গামী হয় সে শিরা/মুত্রনালী কয়েক সেকেন্ডর জন্য চেপে ধরবেন। (লিঙ্গের পাশ থেকে দুই আঙ্গুল দিয়ে ক্লিপের মত আটকে ধরতে হবে।)। চাপ ছেড়ে দেবার পর ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ডের মত সময় বিরতী নিন। এই সময় লিঙ্গ সঞ্চালন বা কোন প্রকার যৌন কর্যক্রম করা থেকে বিরত থাকুন।এ পদ্ধতির ফলে হয়তো পুরুষ কিছুক্ষনের জন্য লিঙ্গের দৃঢ়তা হারাবেন। কিন্তু ৪৫ সেকেন্ড পুর পুনরায় কার্যক্রম চালু করলে লিঙ্গ আবার আগের দৃঢ়তা ফিরে পাবে।স্কুইজ পদ্ধতি এক মিলনে আপনি যতবার খুশি ততবার করতে পারেন। মনে রাখবেন সব পদ্ধতির কার্যকারীতা অভ্যাস বা প্রাকটিস এর উপর নির্ভর করে। তাই প্রথমবারেই ফল পাওয়ার চিন্তা করা বোকামীর প্রমাণ ছাড়া আর কিছু নয়। যৌন মিলন করার উপায় জানলে ২ নাম্বার পদ্ধতিও কার্যকর।

পদ্ধতি ২: সংকোচন (টেনসিং):


অধিক সময় ধরে যৌন মিলন করার এ পদ্ধতি সম্পর্কে বলার আগে আমি আপনাদের কিছু বেসিক ধারনা দেই। আমরা প্রস্রাব করার সময় প্রসাব পুরোপুরি নিঃস্বরনের জন্য অন্ডকোষের নিচ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত অঞ্চলে যে এক প্রকার খিচুনী দিয়ে পুনরায় তলপেট দিয়ে চাপ দেই এখানে বর্নিত সংকোচন বা টেনসিং পদ্ধতিটি অনেকটা সে রকম। তবে পার্থক্য হল এখনে আমরা খিচুনী প্রয়োগ করবো – চাপ নয়।এবার মুল বর্ননা – মিলনকালে যখন অনুমান করবেন বীর্য প্রায় স্থলনের পথে, তখন আপনার সকল যৌন কর্যক্রম বন্ধ রেখে অন্ডকোষের তলা থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত অঞ্চল কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রচন্ড শক্তিতে খিচে ধরুন। এবার ছেড়ে দিন। পুনরায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য খিচুনী দিন। এভাবে ২/১ বার করার পর যখন দেখবেন বীর্য স্থলনেরে চাপ/অনুভব চলে গেছে তখন পুনরায় আপনার যৌন কর্ম শুরু করুন।সংকোচন পদ্ধতি আপনার যৌন মিলনকে দীর্ঘায়িত করবে। আবারো বলি, সব পদ্ধতির কার্যকারীতা অভ্যাস বা প্রাকটিস এর উপর নির্ভর করে। তাই প্রথমবারেই ফল পাওয়ার চিন্তা করা বোকামী হবে।


পদ্ধতি ৩: বিরাম (টিজিং / পজ এন্ড প্লে):


এ পদ্ধতিটি বহুল ব্যবহৃত্‍। সাধারনত সব যুগল এ পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে থাকেন। এ পদ্ধতিতে মিলনকালে বীর্য স্থলনের অবস্থানে পৌছালে লিঙ্গকে বাহির করে ফেলুন অথবা ভিতরে থাকলেও কার্যকলাপে বিরাম দিন। এই সময় আপনি আপনাকে অন্যমনস্ক করে রাখতে পারেন। অর্থ্যত্‍ সুখ অনুভুতি থেকে মনকে ঘুরিয়ে নিন।যখন অনুভব করবেন বীর্যের চাপ কমে গেছে তখন পুনরায় শুরু করতে পারেন।বিরাম পদ্ধতির সফলতা সম্পুর্ন নির্ভর করে আপনার অভ্যাসের উপর। প্রথমদিকে এ পদ্ধতির সফলতা না পাওয়া গেলেও যারা যৌন কার্যে নিয়মিত তারা এই পদ্ধতির গুনাগুন জানেন। মনে রাখবেন সব পদ্ধতির কার্যকারীতা অভ্যাস বা প্রাকটিস এর উপর নির্ভর করে। তাই প্রথমবারেই ফল পাওয়ার চিন্তা করবেন না।


পরিশিষ্ট:

উপরের সবকয়টি যৌন মিলন করার উপায় আপনার সঙ্গীর তৃপ্তির উদ্দেশ্যে। অনেকের ধারনা নারী এ ট্রিকস্ গুলো অনুমান বা জানতে পারলে পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। ধারনাটি সম্পুর্ন ভুল। আপনি আপনার স্ত্রীকে পদ্ধতিগুলো বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন সেই আপনাকে সাহায্য করছে। কারন সে জানে আপনি বেশি সময় নেয়া মানে সে লাভবান হওয়া। স্ত্রীরও উচিত স্বামীর প্রতি যত্নশীল হওয়া।

রাতে ব্রাশ করার প্রয়োজনীয়তা

দাঁত মানুষের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে

আমাদের দিন শুরু ও শেষ হয় দাঁত ব্রাশ করা দিয়ে।

জেনে নিন কিভাবে ব্রাশ করা উচিতঃঃ

ব্রাশ করার আগে অবশ্যই একটি দিকে খেয়াল রাখতে হবে তা হলো দাঁতের উপযোগী একটি ব্রাশ যা দাঁতকে ভালো এবং সুস্থ রাখবে।

১: পরিমিত মাত্রায় পেস্ট নিয়ে সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করুন। সম্ভব হলে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। শিশুদের জন্য কম ঝাঁজাল টুথপেস্ট বেছে নিন।
২: ব্রাশের শলাকাগুলো দাঁতের সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোনাকুনিভাবে ধরে ওপর পাটির দাঁত ওপর থেকে নিচে এবং নিচের পাটির দাঁত নিচ থেকে ওপরে ব্রাশ করুন।
৩: দাঁতের ভেতরে ও বাইরের অংশে সমান সময় নিয়ে ব্রাশ করুন। তাড়াহুড়া করবেন না। কমপক্ষে দুই মিনিট সময় নিয়ে ব্রাশ করুন।
৪: তিন মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ব্রাশের শলাকাগুলো বাঁকা হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করতে হবে।
৫ : দিনে কম পক্ষে দুবার ব্রাশ করার পাশাপাশি অন্য সময় চকলেট কিংবা মিষ্টিজাতীয় আঠালো খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত ব্রাশ করুন।
যা করা উচিত নয়
৬: অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। বেশি জোরে ও দ্রুত ব্রাশ করা থেকেও বিরত থাকুন। ব্রাশের আঘাতে যেন মুখগহ্বরের ভেতের ঝিল্লির পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
৭:সামনে-পিছে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের গোড়া ক্ষয়ে যেতে পারে। ওপর-নিচে ব্রাশ করুন।

যে ভাবে ব্রাশ করলে দাঁত ভালো থাকে

১: ওপরের পাটি
মাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে প্রতিটি দাঁতের আশপাশে ব্রাশ পৌঁছে দিন।
২: নিচের পাটি
মাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে প্রতিটি দাঁতের আশপাশে ব্রাশ করুন।
৩: দাঁতের ওপরের অংশ
পেছনের দাঁতের ওপর-নিচ সবখানে ব্রাশ করুন।
৪: দাঁতের বাইরের অংশ
এক প্রান্ত থেকে শুরু করে অপর প্রান্ত পর্যন্ত অথবা ওপর থেকে নিচের দিকে ব্রাশ করুন।
ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করতে এক থেকে দুই মিনিট সময় নিন।
অল্প পরিমাণে ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন এবং একটি ছোট ও নরম ব্রাশ বেছে নিন।

দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করে তোলার কিছু উপায় জেনে নিন

লেবু ও বেকিং পাউডারের পেস্ট
ঝকঝকে দাঁতের জন্য বেকিং পাউডারের কার্যকারিতার কথা অনেকে শুনে থাকবেন। এই পাউডারের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে টুথব্রাশে নিয়ে দাঁত মাজুন। মুখে এক মিনিট ধরে এই পেস্ট রেখে দিন এরপর ধুয়ে ফেলুন। এতে অ্যাসিড দাঁতের এনামেলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারবে না। তবে এই পেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, তাতে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।

স্ট্রবেরি ও লবণের মিশ্রণ
স্ট্রবেরিতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে যাতে দাঁত সাদা হয়। এতে ম্যালিক অ্যাসিড নামের এনজাইম আছে যা দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করতে পারে। তিনটি স্ট্রবেরি গুঁড়ো করে তার সঙ্গে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তা ব্রাশে করে নিয়ে দাঁত মাজুন। মুখ ধুয়ে ফেলার আগে এ পেস্ট মুখে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত রেখে দিতে হবে। এতে বেকিং পাউডারও মিশাতে পারেন। তবে এই পেস্টও ঘন ঘন ব্যবহার না করাই ভালো।

নারকেল তেল
মুখভর্তি নারকেল তেল মাউথওয়াশের মতো ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর তা কুলি করে ফেলে দিন। মুখ ধুয়ে ব্রাশ করে ফেলুন। প্রতিদিন একবার এ পদ্ধতিতে দাঁত মাজা যেতে পারে।

আরো কিছু সহজ উপায়

পাতি লেবুর খোসা

পাতিলেবু সব বাড়িতেই কম-বেশি খাওয়ার কাজে ব্যবহার হয়। ফলে বাড়িতে থাকেই। সেই পাতিলেবুর খোসা এক মুঠো নিয়ে দুই-তিন দিন রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর মিক্সিতে দিয়ে ভালো করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেটি একটি পরিষ্কার ঢাকনাওয়ালা পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। এ বার তার থেকে দুই চামচ গুঁড়ো নিয়ে নিতে হবে। সেই গুঁড়োতে এক চামচ গরম জল ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এ বার এই পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে দুই-তিন দিন এটি দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। এতে পাতিলেবুর খোসার গুণাগুণ দাঁতের যত্ন নেবে। এর মধ্যে থাকা ব্লিচিং প্রপার্টিস দাঁতের হলদে দাগ তুলে দেবে।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার

অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে রয়েছে প্রচুর উপকারী উপাদান। এই উপাদানগুলি দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে খুব দ্রুত। সেই সঙ্গে হলদে ভাবও তাড়াতাড়ি দূর করে দেয়। সপ্তাহে খুব বেশি দুই দিন অ্যাপেল সিডার ভিনিগার ব্যবহার করা যাবে। এই অ্যাপেল সিডার ভিনিগারের সঙ্গে জল মিশিয়ে তা দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। তার জন্য এক চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার নিতে হবে। তার সঙ্গে তিন চামচের মতো জল মেশাতে হবে। এই ভাবে তৈরি হবে মাউথ ওয়াশ। এই মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পর অবশ্যই ঠান্ডা জল দিয়ে কিছুক্ষণ কুলকুচি করে নিতে হবে।

তিল

তিল ব্যবহারের পদ্ধতি হল, চার চামচ তিল ভালো করে বেটে তৈরি করে নিতে হবে পেস্ট। সেই পেস্ট দিয়ে সপ্তাহে অন্তত চার দিন দাঁত মাজলে হলদে ভাব দূর হবে। সেই সঙ্গে উন্নতি হবে এনামেলের গঠনেও। ফলে দাঁত হলদে দেখার আশঙ্কা থাকবে না। এটি গেল একটি পদ্ধতি। তা ছাড়াও অল্প তিলের তেল মুখে নিয়ে কুলকুচি করলেও উপকার পাওয়া যায়।

কলার খোসা

দাঁতের যত্নে অন্য তম উপকারী উপাদান হল কলার খোসা। একটা কলার খোসা নিতে হবে। তার ভেতরের সাদা অংশটা দুই মিনিট দাঁতে ঘষতে হবে। মোটামুটি ভাবে এক থেকে দুই সপ্তাহ এ ভাবে দাঁতের যত্ন নিলে হলদে ভাব দূর হবে। তবে একটি বিষয় হল খোসাটি ছাড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করতে হবে। তবেই উপকার পাওয়া যাবে। কিছু দিন ফেলে রেখে খোসার ব্যবহার করলে তা বেকার। কোনো কাজেই লাগবে না।

পুদিনা পাতা

টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজার পরে পুদিনা পাতার ব্যবহার করতে হবে। কয়েকটি পুদিনা পাতা থেঁতো করে তা দাঁতে এবং মাড়িতে ঘষলে মুখের দুর্গন্ধ যেমন দূর হবে তেমনই দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াও মারা পড়বে। দাঁতের নানান সমস্যা দূরে থাকবে। দাঁতের হারিয়ে যাওয়া সাদা ভাব ফিরে আসবে।

লবঙ্গ ও নুন

আজকাল অনেক টুথপেস্টেই লবঙ্গ আর নুন থাকার কথা দাবি করা হচ্ছে। তার কারণ হল দাঁতকে সুস্থ রাখতে এই দু’য়ের কোনো তুলনা হয় না। দাঁতের যত্নে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার বহু প্রাচীন কাল ধরেই হয়ে আসছে। তেমনই কাঁচা লবঙ্গও খুবই উপকারী। লবঙ্গের সঙ্গে লাগবে নুন। এই দুই দাঁতের হলুদ দাগ-ছোপ দূর করে। তার জন্য প্রথমে লবঙ্গ গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই গুঁড়ো থেকে এক চামচ নিয়ে তাতে সম পরিমাণ অর্থাৎ এক চামচ নুন মিশিয়ে নিতে হবে হবে। এ বার তা দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। নিয়মিত এই ভাবে দাঁতের যত্ন নিতে হবে। তা হলে দাগমুক্ত ঝকঝকে দাঁত পাওয়া যাবে।   

এভাবেই আমরা খুব সহজেই ঝকঝকে দাঁত পেতে পারি।

করলার উপকারিতা

করলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতাঃ

করলা (করল্লা, উচ্ছা, উচ্ছে) এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে আরো বহু গুণ।

এবার জেনে নিন করলার আরো কিছু উপকারিতাঃ

১।করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।   করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি।

২।ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়। করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।

৩।করলা পাতার রসের উপকারিতা করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে , সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়

এবার জেনে নিন তিতা করলার কিছু অসাধারণ উপকারিতা

পুষ্টিগুণের বিবেচনায় করলা অনেক সমৃদ্ধ। বড় ধরনের রোগ সারাতে করলায় লুকিয়ে আছে অসাধারণ গুণ। আজ জেনে নেব, তিতা করলার গুণ সম্পর্কে।

করলা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোতে সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরের কোষের গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়।  ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা কমে।

করলায় আছে যথেষ্ট লৌহ, ভিটামিন এ, সি এবং আঁশ। এন্টি অক্সিডেন্ট-ভিটামিন এ এবং সি বার্ধক্য বিলম্বিত করে। এছাড়া করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন। করলায় আছে ‘ই কোলাই’ নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে জীবাণুনাশী ক্ষমতা।

করলা রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগ্লিসারাইড বা টিজি কমায় আর বাড়ায় ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল। এতে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন করলা গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং প্রতিরোধ হয় রক্তনালিতে চর্বি জমার কারণে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা।

খাবারে অরুচি দেখা দিলে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ করে ফলের রস সকাল ও বিকেলে খেলে খাবারে রুচি বাড়বে।

ম্যালেরিয়ায় করলা পাতার রস খেলে খুব উপকার মেলে। এছাড়া ম্যালেরিয়ার রোগীকে দিনে তিনটে করলার পাতা ও সাড়ে তিনটি আস্ত গোলমরিচ এক সঙ্গে থেঁতো করে নিয়ম করে ৭ দিন খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। করলার পাতার রস খেলে জ্বর সেরে যায়। এছাড়া শিশুদের শরীর থেকে কৃমিও দূর হয়।

দেহ থেকে বাতব্যথা তাড়াতে চার চা-চামচ করলা বা উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে দেড় চা চামচ বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি মিশিয়ে ভাতের সঙ্গে খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন খেলে সুস্থ হবেন সহজেই।

শরীর কামড়ানি, পানি পিপাসা বেড়ে যাওয়া, বমিভাব হওয়া থেকে মুক্তি পেতে উচ্ছে বা করলার পাতার রস উপকারী। এক চা চামচ করলা পাতর রস একটু গরম করে অথবা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার করে খেলে উপকার পাবেন।

এছাড়াও করলার জুস এ রয়েছে নানান উপকারিতা

কীভাবে তৈরি করা যায় করলার জুস:

করলা আকারে বড় ও ছোট হলেও পুষ্টি গুণের দিক থেকে কোনো তারতম্য নেই। জুস তৈরি করার জন্য গাঢ় সবুজ রঙের কাঁচা করলা সব থেকে উপযোগী। প্রথমে করলাকে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভাল করে ধুতে হবে। এরপর টুকরো টুকরো করে কাটতে হবে এবং কাটা শেষে বিচিগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। তিতা কমাতে চাইলে করলা কেটে ঠাণ্ডা লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ব্লেন্ডারে জুস তৈরি করে নিতে হবে। প্রয়োজন মত লবণ দেয়া যেতে পারে। আর যদি করলার জুসকে একটু মিষ্টি করতে চান তাহলে দু-এক ফোঁটা মধু মেশাতে পারেন।

উপকারিতা:

১. করলার রস নিয়মিত পানে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কোষ ধ্বংস হয়।

২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার রস সহায়তা করে।

৩.করলার আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৫. দাঁত ও হাড় ভালো রাখে।

৭. দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে করলার বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী।

৮. ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্যও একান্ত জরুরি।

৯. চর্মরোগ সারাতে সাহায্য করে।

১০. করলার রস ক্রিমিনাশক।

কিভাবে আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারি।


কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিত ডায়েট, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা বংশানুক্রমিক। সময়মতো কোষ্ঠকাঠিন্যে যথাযথ ব্যবস্থা বা সতর্কতা অবলম্বন না করলে তা কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য অনেকে ওষুধ খেয়ে থাকেন, কিন্তু তাতে সাময়িক ভাবে সমস্যার সমাধান হয়। ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় দীর্ঘস্থায়ী উপকার পাওয়া সম্ভব। আসুন, এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক-

১) লেবু-

লেবু বা লেবুর রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক খুবই কার্যকরী। এক গ্লাস গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস দিয়ে দিন। এর সঙ্গে আধা চা চামচ নুন এবং সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটা পান করুন। দ্রুত ফল পেতে সন্ধ্যায় আরেকবার পান করুন এই মিশ্রণ। কিছুদিনের মধ্যেই ফল পাবেন।

২) মধু-

মধু উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে মধু খুবই উপকারী। দিনে তিনবার দুই চা চামচ করে মধু খান। আপনি চাইলে এক গ্লাস গরম পানির মধ্যে মধু ও লেবুর রস মিশিয়েও খেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটি পান করুন। কিছু দিনের মধ্যে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। তবে ডায়াবেটিক রোগীরা মধু খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

৩) আঙ্গুর-

প্রতিদিন অর্ধেক বাটি আঙ্গুর বা অর্ধেক গ্লাস আঙ্গুরের রস পান করুন। যদি বাড়িতে আঙ্গুর না থাকে বা আঙ্গুর খেতে ভাল না লাগে, তাহলে দু চামচ কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। কিশমিশসহ এই পানি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দ্রুত দূর হয়ে যাবে।

৪) পালং শাক-

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন পালং শাক। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। আপনি চাইলে এটি সালাদের মতো করেও খেতে পারেন বা রান্না করেও খেতে পারেন। যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুব বেশি জটিল আকার ধারণ করে তাহলে, পালং শাকের রস বানিয়ে অর্ধেকপানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বেলা নিয়ম করে খেয়ে নিন। দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

৫) ক্যাস্টর অয়েল-

ক্যাস্টর অয়েল শুধু ত্বক বা চুলের যত্নে ব্যবহার হয় না, এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও খুবই কার্যকরী। সকালে খালি পেটে এক বা দুই চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল খান। আপনি চাইলে ফলের রসের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। কয়েক ঘন্টার মধ্যে আপনি পরিবর্তন দেখতে পাবেন। তবে দীর্ঘদিন এটি খাবেন না। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

আরো কিছু সহজ উপায়

১. প্রতিদিন প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খান। গোটা শস্য, শাকসবজি, ফলমূল যেমন বেল, পেঁপে ইত্যাদি হলো আঁশযুক্ত খাবার।

পাশাপাশি দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করুন।

৩. যত দূর সম্ভব মল চেপে না রাখার অভ্যাস করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ে তোলা।

বিশেষত যেসব কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে

ব্যথানাশক ওষুধ: যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার ভুগছেন, তাঁরা অবশ্যই ব্যথানাশক (আইবুপ্রোফেন) এড়িয়ে চলবেন। নিয়মিত ব্যথানাশক সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

দুগ্ধজাত খাবার: দুগ্ধজাত খাবার, যেমন: ক্রিম, গরুর দুধ বা দুধ থেকে তৈরি ঘি এড়িয়ে যাওয়া ভালো। এতে উচ্চ ল্যাকটোজ থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া: প্রক্রিয়াজাত ও পরিশোধিত, খাবার: যেমন রুটি ও পাস্তাতে প্রচুর চর্বি থাকে, যা হজমপ্রক্রিয়ার গতি কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে। এতে ফ্রুকট্যানস থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলা ও গ্যাস তৈরি করে।

কফি পান: কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সময় কফি পান করা উচিত নয়। ক্যাফেইন অন্ত্রের নড়াচড়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেশি করে পান করা উচিত।

যে খাবার কম খাবেন: লাল মাংস কম খেতে হবে। চিপস, ভাজাপোড়া খাবার, কফি, চকলেট ইত্যাদি এড়িয়ে চলা ভালো। যেসব খাবার তৈরিতে প্রচুর চিনি ব্যবহৃত হয়, সেসব খাবারেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। যেমন: বেকারির খাবার—কেক, পেস্ট্রি ইত্যাদি। অনেক সময় কাঁচকলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যাঁরা আয়রন ক্যাপসুল খান, তাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া স্বাভাবিক। খাদ্যাভ্যাস পাল্টেও সমস্যার সমাধান না হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জটিলতা

দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে অনেক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- মল ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া

* অর্শ বা পাইলস, ফিস্টুলা বা ভগন্দর, এনাল ফিশার বা গেজ রোগ হওয়া

* রেকটাল প্রোলাপস তথা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা

* প্রস্রাবের সমস্যা

* ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন বা অন্ত্রে ব্লক বা প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যাওয়া।

চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। প্রাথমিকভাবে এর চিকিৎসা হচ্ছে— প্রচুর পানি, শরবত বা তরল খাবার পান করা

* বেশি করে শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া

* নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটাচলা করা

* ইসবগুলের ভুষি, বেল, পেঁপে ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া যায়

* সোনাপাতা, এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী খেলেও উপকার পাওয়া যায়

* হালকা গরম দুধ পান করা। এতে উপকার না হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য অনেকেই কারণ শনাক্ত না করে বা উপরোল্লিখিত প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো না নিয়েই প্রথম থেকে মল নরম করার বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, সিরাপ এবং মলদ্বারের ভিতরে দেওয়ার ওষুধ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকেন, যা মোটেও উচিত নয়। নিয়মিত এসব ওষুধ ব্যবহার করলে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। এর ফলে মলদ্বারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা আর থাকে না।

উপরের নিয়ম গুলো মেনে চললে সহজে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা যায়।

বর্ষায় শিশুর যত্ন

বর্ষায় শিশুর যত্ন

আষাঢ় শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। বর্ষাকালে কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কখনো হয়ে ওঠে গরম, আবার কখনো ঠান্ডা। তাই ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর যত্নের ধরনও বদলে যায়। এজন্য এ সময় শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বর্ষাকালে কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কখনো হয়ে ওঠে গরম, আবার কখনো ঠান্ডা। তাই ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর যত্নের ধরনও বদলে যায়। এজন্য এ সময় শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বর্ষায় কীভাবে শিশুর যত্ন নেবেন জানালেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুব মোতানাব্বি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় তাদের অসুখ-বিসুখও বেড়ে যায়। এর মূল কারণ হচ্ছে বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস খুব সহজেই রোগ ছড়াতে পারে। বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ডায়রিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, সর্দি-কাশি, টাইফয়েড, ছত্রাকজনিত ত্বকের সমস্যা। তাই এ সময়ে শিশুদের যত্নের বিষয়ে খুব সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এই বৃষ্টি তো এই ভ্যাপসা গরম। আবহাওয়া এখন এমনই। প্রকৃতির পটপরিবর্তনের এই সময় হুট করে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে শিশুরা। শিশুর সুস্থতায় এই সময় বাড়তি খেয়াল রাখা চাই। শিশুর পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, রোজকার যত্ন—এসবের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত কাপড়গুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।

আর পড়ুনঃ গরমে নবজাতকের যত্ন

বর্ষায় শিশুর যত্ন ও প্রয়োজনীয় কিছু কাজঃ

■ শিশুকে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি খাওয়ান। বাইরের খোলা খাবার দেবেন না।

■ শিশু ঘেমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল রাখুন। ঘাম হলে মুছিয়ে দিন। প্রয়োজনে পোশাক বদলে দিন।

■ বৃষ্টিতে ভিজলেও দ্রুত কাপড় বদলে ভালোভাবে মুছে দিন।

■ খুব প্রয়োজন না পড়লে ডায়াপার পরাবেন না। ডায়াপার পরিয়ে রাখার ফলে র‍্যাশ হতে পারে। ভেজা অবস্থায় রাখলে ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই ডায়াপার পরালেও সতর্ক থাকুন যাতে ডায়াপারের স্থানে ঘাম না জমে। ভিজলে একটু পাউডার লাগিয়ে জায়গাটা শুষ্ক রাখতে পারেন।

■ ধূলাময় স্থান এড়িয়ে চলুন। ছায়াযুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখুন শিশুকে। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসার ব্যবস্থা রাখুন।

■ ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র থাকলেও ঘর খুব বেশি ঠান্ডা করবেন না। ঘরে-বাইরে তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি হলে শিশুর সহজেই ঠান্ডা লেগে যাবে। রাতের শেষ দিকে এমনিতেই তাপমাত্রা কমে যায়। এ সময় কৃত্রিমভাবে তাপমাত্রা কমানোর প্রয়োজন হয় না। আর যাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট থাকে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র তাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুষ্কতা এড়াতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রে একটি পানির পাত্র রাখতে পারেন বা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। তবে বদ্ধ ঘরের চেয়ে খোলামেলা, উন্মুক্ত পরিবেশ শিশুর জন্য বেশি ভালো।

■ দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করুন।

বর্ষায় মশার উপদ্রব অনেক বেড়ে যায়।

বর্ষায় মশার উপদ্রব অনেক বেড়ে যায়। আর এ থেকে ডেঙ্গু জ্বরসহ নানা রোগের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। তাই এই ঋতুতে শুধু বাড়ির ভেতরটা নয়, পরিষ্কার রাখতে হবে বাড়ির আশপাশও। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় থাকলে সম্ভব হলে তা পরিষ্কার করিয়ে মশার ওষুধ ছিটিয়ে দিন। ঘরের ভেতর খাটের নিচে, আলমারির পেছনসহ বিভিন্ন ফার্নিচারের আটকানো জায়গাগুলো পরিষ্কার করে নিন। কারণ ঘরের এসব জায়গাতেই মশা লুকিয়ে থাকে। এডিস মশার উপদ্রব কমাতে ফুলদানি, ফুলের টব বা পড়ে থাকা পাত্রে এক সপ্তাহের বেশি যেন পানি আটকে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। রাতে তো বটেই, দুপুরে বা বিকালে শিশু ঘুমালেও মশারি টানিয়ে দিন।

নানা কারণে শিশুদের পেটে সমস্যা হয়ে থাকে। বিশেষত বর্ষাকালে। বাচ্চাদের পেটের যত্ন বেশি করে নেওয়া উচিত।

শিশুর অসুস্থতায় মা বাবাকে কম বেশি ভুগতে হয়। নবজাতকের ক্ষেএে ওভার ফিডিং এবং দোকানের দুধের থেকে অথবা অপরিস্কার বোতল থেকে সংক্রমণের সমস্যা লেগেই থাকে। আর বষাকালে পানি ও একটা বড় সমস্যা। ঠিক ভাবে ফোটানো না হলে এতে জীবাণু থেকে যায় তাতে শিশুর পেটের সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়াও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেলে ও শিশুদের পেটে সমস্যা হয়ে থাকে। বুঝতে না পেরে খেয়ে পেলা এল্যাজি জাতীয় খাবার খেয়ে পেট সমস্যা হয়ে থাকে।

বিশেষ করে বর্ষাকালে হজম সংক্রান্ত সমস্যা আরো দিগুণ বেরে যায়। পানি থেকে ইনফেকশন সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।

তাই উপরের নিয়ম গুলো লক্ষ্য করুন আর আপনার শিশুকে বর্ষাকালে সুস্থ রাখুন।

শিশুদের টেলিভিশনের মোহ কিভাবে ভাঙাবেন?

শিশুদের টেলিভিশনের মোহ কিভাবে ভাঙাবেন

কোনো কোনো শিশুর জন্য মাতা-পিতার পর টেলিভিশন যেন তৃতীয় অভিভাবক। শিশুদের মা-বাবা শিশুদের বিরক্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাদের দীর্ঘ সময় টেলিভিশন দেখার প্রতি উৎসাহিত করে আরাম অনুভব করেন। আবার পরবর্তীতে শিশুদের টেলিভিশনের মোহ কিভাবে ভাঙাবেন তার উত্তর খুজে থাকেন। আবার শিশুবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারকারী অনেক টিভি চ্যানেল শিশুদের মা-বাবাকে তাঁদের শিশুদের টিভির সামনে ছেড়ে দিতে বিশ্বাস জন্মিয়েছে। তাঁদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে টিভি শিশুদের যত্ন নেয় ও শিক্ষা দেয়। কিন্তু বাস্তবে এই টিভি দেখার দরুন শিশুদের যে ক্ষতি হয়, তা তাদের প্রদত্ত সুবিধা থেকে অনেক বেশি। এ বিষয়ে কৃত ব্যাপক অনুসন্ধান ও একাডেমিক গবেষণার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের নির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা মেনে টিভি দেখতে দেওয়া উচিত, যা নিচে দেওয়া হলো—

১. প্রতিদিন টিভি দেখার সময় সব মিলিয়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টার বেশি যেন না হয়।

২. যেসব প্রগ্রাম তারা টিভিতে দেখে, তা যেন মৌলিকভাবে শিক্ষামূলক হয়।

৩. এ ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা মুখ্য। সন্তান টিভিতে যা দেখছে, তা নিয়ে নজরদারি করা দরকার।

টিভি দেখার নেতিবাচক প্রভাব

১. দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখা শিশুকে এমন সব প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত করে, যা তার মস্তিষ্কেও যথাযথ উন্নতির জন্য জরুরি ও মেধা বিকাশে প্রয়োজন হয়। টিভি দেখা শিশুদের যেসব কাজ থেকে বঞ্চিত করে, তাদের একটি হলো, মা-বাবার সঙ্গে বিনোদন করা। কারণ শিশু দীর্ঘ সময় ধরে টিভির সামনে বসে থাকে। এটা শিশুদের এমন অনেক উপকারী খেলা থেকে বঞ্চিত করে, যা তাদের মানসিক সক্ষমতাকে উন্নত করে। তা ছাড়া এটা শিশুদের শারীরিক স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড হ্রাস করে। অনুরূপ আপনজনের সঙ্গে বিনোদনের অভাব শিশুর সামাজিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।

২. শিশু দীর্ঘ সময় টিভির সামনে বসে থাকা ও টিভি দেখার সময় অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় ও রেডিমেট খাবার খাওয়ার ফলে টিভিকে মেদ বাড়ার একটি উপলক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৩. এটা শিশুর একাডেমিক লেখাপড়া ও সামাজিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে।

৪. কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগীয় একজন প্রফেসরের পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, একটি শিশুর এক ঘণ্টা টিভি দেখার দরুন তার ১০ শতাংশ সচেতনতা ও মনোযোগের দক্ষতা কমে যায়। এটা শিশুকে সাধারণত পড়ার প্রতি অনীহা ও বইয়ের প্রতি তার অনুরাগ কমিয়ে ফেলে। এটা তাকে এমন এক অলস চিন্তাশীল বানায় যে সে সহজেই বিরক্ত হয়।

৫. কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন স্টাডি বিভাগের ডিন ড. মুস্তফা আবদুস সামি বলেন, টিভি দেখার দরুন শিশুর ওপর এর শারীরিক ও মানসিকভাবে একটি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে এবং শিশুর উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি হ্রাস করে, সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল করে এবং অনীহা ও উদাসীনতা সৃষ্টি করে।

আর পড়ুনঃ কিভাবে আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারি

৬. সহিংস নাটক ও হত্যার দৃশ্যপট শিশুর মাঝে ভয়, আতঙ্ক ও ভয়ানক দুঃস্বপ্ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যেসব শিশু দুই থেকে সাত বছরের, তাদের ওপর এর প্রভাব বেশি। এসব দৃশ্যপট তাকে হিরো ও সুখী করবে ভেবে শিশু তার আপনজনের সঙ্গে ওই চরিত্রের সহিংস অভিনয়ও করতে পারে।

৭. শিশু টিভি ও ডিশ দেখার দরুন অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফির মতো উপাদান দেখারও প্রবল সম্ভাবনা থাকে। অনেক পরিবার তাদের শিশুদের নিয়ে টিভির চারপাশে ভিড় জমায় এবং তার সামনে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বসে ওই সব লোকের দ্বারা তৈরি এমন মুভি ও বিভিন্ন প্রগ্রাম দেখে, যার বেশির ভাগ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে না।

৮. প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখা, বিশেষভাবে খাদ্যসামগ্রীর বিজ্ঞাপন দেখার মধ্যে শিশুদের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ওই সব শিশুর জন্য এটি ক্ষতিকর, যারা সব কিছু টিভিতে খুঁজে বেড়ায় এবং এতে যা দেখে তা-ই সর্বোত্তম ভাবে। প্রায় সময় বিজ্ঞাপন করা খাদ্যসামগ্রী শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন—চিপস বা এমন খাবার, যাতে প্রচুর চর্বি, চিনি বা উচ্চমাত্রার ক্যালরি রয়েছে। খাদ্যে মেশানো ওই সব উপাদানের কারণে শিশুদের অতিমোটা বা স্থূল করে তুলবে।

একান্ত যদি টিভি দেখতেই হয় তাহলে- শিশুদের টেলিভিশনের মোহ কিভাবে ভাঙাবেনঃ

এমন কিছু উপদেশ, যা টিভিকে হন্তারক শক্তি থেকে শিশুদের জন্য কিছুটা উপকারী হিসেবে পরিণত করবে-

১. যদি শিশু দুই বছরের কম বয়সী হয়, তাহলে তার মোটেই টিভি দেখা উচিত নয়।

২. টিভিকে শিশুনির্ভর ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। তা ছাড়া মা-বাবাকে তাঁদের শিশুদের সঙ্গে টিভি দেখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানের উপকারী দিকটা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায় এবং ক্ষতিকর দিকটা দূর করা যায়। কারণ তারা এসব প্রগ্রামে কোনটা বাস্তব আর কোনটা কাল্পনিক, তা পার্থক্য করতে সক্ষম নয়।

৩. শিশুকে নির্দিষ্ট সময় টিভি দেখার অনুমতি দিন, এটা যেন  প্রতিদিন ১-২ ঘণ্টার বেশি না হয়। তা ছাড়া এটাও যেন টিভি দেখার ওই সময়ানুযায়ী হয়, যে সময় মা-বাবা সময় দিতে রাজি হন।

৪. আপনার শিশুকে প্রচুর টিভি না দেখার উপমা পেশ করুন।

৫. টিভির বিকল্প উপস্থাপন করুন। যেমন—কিছু খেলাধুলা, কিছু শখ পালন করা এবং তাকে এমন কিছু শারীরিক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত করুন, যা আপনার শিশুকে উপকার দেবে।

৬. টিভি দেখার সময় খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

৭. আপনার শিশুকে টিভি দেখার অনুমতি দেওয়ার আগে অনুষ্ঠানের বিষয়সূচি খুঁজে বের করুন।

৮. ওই সব কার্টুন দেখা এড়িয়ে চলুন, যেগুলোর মধ্যে সহিংসতা ও হিংস্রতা রয়েছে। এ ধরনের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে টম অ্যান্ড জেরি, যা সাধারণত জেদি মনোভাবাপন্ন ও সহিংস চরিত্রভিত্তিক হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে এর প্রদর্শন এখন খুব জনপ্রিয়।

৯. আপনার শিশুকে বাড়ির কাজ ও গৃহস্থালির কাজকর্ম সম্পাদনের আগে টিভি দেখার অনুমতি প্রদান করবেন না।

১০. রিমোট কন্ট্রোল আপনার শিশুর হাতে ছেড়ে দেবেন না।

গরমে নবজাতকের যত্ন নিতে কি কি করতে হবে আপনাকে?

গরমে নবজাতকের যত্ন

জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত বয়সী শিশুকে নবজাতক বলা হয়। এ সময় মা ও শিশু দুজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷ নবজাতককে নিরাপদ রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।

নানান ভাবে এই গরমে নবজাতকের যত্ন নিতে পারেন

#১.শরীর যেন আর্দ্র থাকে (Keep the baby hydrated)

গরমে আমাদের যেমন ঘন ঘন জল তেষ্টা পায়, শিশুরও কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়। যেহেতু, সদ্যোজাত শিশু মায়ের দুধই খায়, তাই ওকে কিছুক্ষণ পরপর একটু করে দুধ খাইয়ে দিন। যদি কোনও কারণবশত আপনি ওকে ব্রেস্ট মিল্ক দিতে পারছেন না এবং ফর্মুলা খাওয়াতে শুরু করেছেন, তা হলে বাচ্চাকে ফর্মুলার সাথেই জল দিতে হবে। কিন্তু, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে। বাচ্চাকে জল খাওয়াতে হলে সেই জল যেন অতিমাত্রায় বিশুদ্ধ হয় এবং জলের বোতল যেন অবশ্যই স্টেরিলাইজড করা হয়। শিশুকে জল দেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। বাচ্চা ব্রেস্ট মিল্ক খেলে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার খাওয়া-দাওয়ার ওপর। বেশি করে জল খান আপনিও। দিনে অন্তত ৩ লিটার তো বটেই।

#2. স্নান করার শিশুকে (Bathe your baby regularly)

গরমে নবজাতকের যত্ন এর জন্য প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাকে স্নান করানো অবশ্যই উচিত। তবে, মনে রাখবেন, বাচ্চার স্নানের জল যেন কখনই খুব গরম বা খুব ঠান্ডা না হয়। কুসুম গরম জলে বাচ্চাকে স্নান করান। হাতের কনুই জলে ডুবিয়ে জলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন। বাচ্চাকে স্নান করালে বাচ্চার দেহের তাপমাত্রাও কমে এবং ও আরাম পায়। এমনকি, ডাক্তার যদি অনুমতি দেন, তা হলে আপনার ছোট্ট শিশুটিকে আপনি দিনে এক বারের বেশিও স্নান করাতে পারেন। স্নানের সময় বগল ও গোপনাঙ্গের খাঁজ পরিষ্কার করে দিন। এইসব স্থানে ঘাম বেশি হয় বলে নোংরা বেশি বসে ইনফেকশন হতে পারে।

#3. তেল মালিশের খুঁটিনাটি (Oil massage is must)

গরম কাল বলে ভাববেন না, যে শিশুকে তেল মাখানো যাবে না। আমরা না হয় বড়, গরম কালে তেল মাখার নাম শুনলে আঁতকে উঠি। কিন্তু, শিশুর ক্ষেত্রে একেবারেই এই ধারণা কাজ করে না। বাচ্চাকে ভালো কোম্পানির বেবি অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে দিন। লক্ষ্য রাখবেন, বাচ্চাকে যে বেবি অয়েল মাখাচ্ছেন সেটা ওর স্যুট করছে কি না। যেহেতু, বাচ্চা একেবারেই ছোট, তাই যে কোনও নতুন কিছু শুরুর আগে একটু বিশেষ লক্ষ্য রাখতেই হবে। ভালো গুণমানের বেবি অয়েল শিশুকে মাখালে শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়, ত্বক নরম থাকে এবং ওর ঘুমও ভালো হয়।

তবে, যেহেতু গরম কাল, তাই শিশুকে তেল মালিশ করে দেওয়ার পর ভালো করে ভিজে কাপড় দিয়ে সব তেলটা মুছে দিন বা স্নান করিয়ে দিন। শিশুর গায়ে যেন অতিরিক্ত তেল লেগে না থাকে বা তেল প্যাচপ্যাচে ভাব না থাকে। গরম কালে সরষের তেল মাখাবেন না কারণ; এই তেল শরীর গরম করে। গরমে সরষের তেল মাখালে শিশুর র‍্যাশ, ফুসকুড়ি বা ঘামাচি হতেই পারে। বেবি অয়েল ছাড়া নারকেল তেল, তিল তেল বা অলিভ অয়েল শিশুর মালিশের জন্য খুব ভালো।এই তেলগুলি মাখালেও শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়।

আর পড়ুনঃ বর্ষায় শিশুর যত্ন

#4. বেবি পাউডার সঙ্গে থাকুক (Start using baby powder)

ভালো কোম্পানির বেবি পাউডার শিশুটিকে অনেক আরাম দিতে পারে। গরমে ঘাম থেকে হওয়া র‍্যাশ বা বিছানার সাথে ঘষা লেগে শিশুর পিঠে যে র‍্যাশ হয়, তার থেকে রক্ষা করতে পারে এই বেবি পাউডার। বেবি পাউডারে কুলিং এজেন্ট থাকায় বাচ্চার শরীর ঠান্ডাও রাখে। তবে, কোনও কিছুই তো অতিরিক্ত ভালো নয়। এই একই কথা পাউডারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বেশি পাউডারে লোমকূপ বন্ধ হয়ে র‍্যাশ গজাতে পারে। বাচ্চার গায়ে সরাসরি পাউডার ঢালবেন না। নিজের হাতে পাউডার ঢেলে হাতে মেখে নিন, তারপর বাচ্চার গায়ে আপনার হাতে করে পাউডার মাখিয়ে দিন। এর ফলে, বাচ্চাকে অতিরিক্ত পাউডার মাখানোও হয় না, আবার বাচ্চার নাকে পাউডার ঢুকে যায় না।

#5. ঢিলেঢালা জামা-কাপড় (Choose right clothes)

গরমে নবজাতকের যত্ন নিতে বাচ্চাটিকে এমন জামা-কাপড় পরান, যেন তাতে যথেষ্ট হাওয়া বাতাস খেলে। বাচ্চার গায়ে ঘাম হলে কিছু সময় পরপর ওর জামা পাল্টে দিন। দুপুরের চড়া রোদে ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে না বেরোলেই ভালো। সারাদিন ডায়াপার পরিয়ে রাখবেন না। প্রয়োজনে শুধুমাত্র রাতেই ডায়াপার পরান।

#6. ঘরের তাপমাত্রায় বেশি পরিবর্তন আনবেন না (Don’t change the room temperature frequently)

জন্মের পর বাচ্চারা পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করে। তাই বাচ্চা যেখানে থাকে, সেই ঘরের তাপমাত্রার হঠাৎ হঠাৎ রদবদল তার ছোট্ট শরীর ঠিক ভাবে মানিয়ে নিতে পারে না। বাচ্চা যে ঘরে থাকবে, সেখানে ফ্যানের স্পিড বা এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা একই রকম রাখুন। বাচ্চার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি হওয়া উচিত। এয়ার কুলার ব্যবহার করলে তা যেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। How to take care of a Newborn in Summer in Bangla.

গরমে নবজাতকের যত্ন ও সুস্থ রাখতে আরো কিছু উপায়

১। স্বাস্থ্যকর ও বিশুদ্ধ খাবার

শিশুর সঠিক খাদ্যাভাসই গরমের সমস্যা থেকে শিশুকে অর্ধেক সুরক্ষা দিতে পারে।

  • আপনার সন্তান যদি শুধু বুকের দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে তাহলে তাকে অল্প অল্প করে কিন্তু ঘনঘন বুকের দুধ খাওয়ান। কারণ গরমে ঘামানোর কারণে শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। ঘনঘন বুকের দুধ খাওয়ালে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
  • আপনার সন্তান যদি বাড়তি খাবার খাওয়া শুরু করে তাহলে তাকে বাড়তি খাবারের পাশাপাশি হালকা বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। অথবা বুকের দুধ না খাওয়ালে খাবারের পাশাপাশি হালকা কুসুম গরম দুধ অথবা ফর্মুলা খাওয়াতে পারেন।
  • গরমে গরুর দুধ ও তরল দুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় সেজন্য পাউডার দুধ রাখতে পারেন। তবে পাউডার দুধ ও ফরমুলা মিল্ক অবশ্যই সুরক্ষিত থাকে এমন কোন জার অথবা জায়গার রাখুন।
  • কোন কারণে বাসার বাইরে গেলে ফলমূল ও শুকনো খাবার সাথে রাখুন। রান্না করা খাবার বা তরল খাবার গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২। নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানি

গরমে সুস্থ থাকার জন্য বিশুদ্ধ পানি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

  • শিশুর জন্য অবশ্যই ফুটানো অথবা ফিল্টারিং করা পানি ব্যবহার করবেন।
  • মিনারেল ওয়াটার খাওয়ানোর সময় বোতলের গায়ের মেয়াদ ও বোতলের মুখ অব্যবহৃত কিনা তা দেখে নিতে হবে।
  • ডিহাইড্রেশন থেকে সুরক্ষার জন্য ১ বছরের কম বয়সি শিশুর ৮-১২ আউন্স (২২৬ গ্রাম থেকে ৩৪০ গ্রাম) পানি পান করা উচিত। ১ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য অন্তত ৩০ আউন্স (৮৫০ গ্রাম) পানি পান করা উচিত।
  • অতিরিক্ত গরমে শিশুর ডিহাইড্রেশনের দিকে নজর রাখুন। ডিহাইড্রেশনের লক্ষন দেখলে পানির পরিমাণ বাড়ান অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিন। (ডিহাইড্রেশনে লক্ষন-৬ ঘন্টার বেশি প্রস্রাব, পায়খানা না করা; কাঁদলে চোখ দিয়ে পানি বের না হওয়া, অতিরিক্ত ঘুম ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়া, ঠোট শুকিয়ে যাওয়া ও ফ্যাকাশে দেখানো)

৩। সঠিক পোশাক পরিধান

গরমে শিশুকে সঠিক পোশাক পরিধান করানোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে অনেকাংশেই গরম থেকে বাঁচা যায়।

  • শিশুকে অতিরিক্ত জামা কাপড় পরাবেন না।
  • সুতি, পাতলা ও ঢিলেঢালা জামা পছন্দ করুন। বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে জামার রঙয়ের দিকে খেয়াল রাখুন। যে সব রঙয়ের তাপ শোষন ক্ষমতা বেশি সেসব রঙয়ের জামা পরিহার করুন। সাধারণত বাইরে গেলে কালো রঙয়ের জামা পরাবেন না।
  • চাইলে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। ৬ মাস বয়সী বাচ্চাদের জন্য সানস্ক্রিন রক্ষাকবজের মতো কাজ করে। তবে অবশ্যই শিশুর উপযোগী সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের চেষ্টা করবেন।

উপরের নিয়ম গুলো অনুসরণ করে গরমে নবজাতক শিশুকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

গরমে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিব

গরমে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিব

বাতাসে উষ্ণতা বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সূর্যের তাপ এবং ধুলাবালুর কারণে এ সময়ে ত্বকের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যত্নর। 

গরম কাল এসে গিয়েছে। আর আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তা হলে ইতিমধ্যে দুশ্চিন্তায় আপনার ত্বকে আরও বেশ কয়েকটি অ্যাকনে উঁকি মারা শুরু করে দিয়েছে। গ্রীষ্ম এমনিতেই ত্বকের উপর নানা কুপ্রভাব বিস্তার করে (Summer Skin Care)। ত্বক শুষ্ক, আর্দ্রতাহীন ও খসখসে হয়ে ওঠে। তার উপরে ক্রমাগত ঘামের জন্য তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে নানা রকম ত্বকের সমস্যা যেমন, পিম্পলস-অ্যাকনে বেড়ে যায়। তবে এ সবের হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর টাকা খরচা করতে হবে তা কিন্তু নয়। আপনার রান্নাঘরের কয়েকটি উপাদান এই সমস্যার হাত থেকে আপনাকে রেহাই দিতে পারে। তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো কমলালেবু। সত্যি বলতে ত্বকের উপর জাদু করতে পারে কমলালেবু। কারণ এর মধ্যে অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।ত্বকের উপর জাদু করতে পারে কমলালেবু। কারণ এর মধ্যে অতিরিক্ত তেল শুষে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

  • কমলালেবু অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে পারে
  • কমলালেবুর ত্বকের সমস্যায় মিরাকেল করতে পারে
  • অ্যাকনে, পিম্পলস-এর সমস্যায় কমলালেবুর ফেসপ্যাক উপকারী

কমলালেবু দিয়ে তৈরি তিনটি ফেস প্যাকের সন্ধান:

১. কমলালেবু ও নিমের ফেস প্যাক:

উপকরণ

৩ টেবিল চামচ কমলালেবুর রস, ২ টেবিল চামচ দুধ, ৩ টেবিল-চামচ নিমপাতা বাটা।

প্রনালী

একটি পাত্র নিয়ে তার মধ্যে নিমপাতা বাটা ও দুধ ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এ বার তার মধ্যে কমলালেবুর রস মেশান। মিশ্রণটি ঘন থকথকে হলে মুখে মেখে কুড়ি মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।

২. কমলালেবু ও বেসনের ফেসপ্যাক:

উপকরণ

২ টেবিল চামচ বেসন, ৩ টেবিল চামচ গোলাপজল, ৩ টেবিল চামচ কমলা লেবুর রস।

প্রনালী

কমলালেবুর রসের সঙ্গে বেসনের গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপরে তার মধ্যে পরিমাণমতো গোলাপ জল মেশান। মুখে মেখে কুড়ি মিনিট রাখার পরে দেখবেন পুরো মিশ্রণটি শুকিয়ে গিয়েছে। তখন হালকা হাতে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন বা নরম কাপড় ভিজিয়ে মুছে ফেলতে পারেন। এক সপ্তাহে ৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করুন।

৩. কমলা লেবু এবং ওটমিল ফেসপ্যাক

উপকরণ

১ টেবিল চামচ ওটমিল, ২ টেবিল চামচ কমলালেবুর রস।

প্রণালী

একটি পাত্রে দুটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে মাখুন। দশ থেকে বারো মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন ।

নিন্মে আরো কিছু নিয়মাবলি দেওয়া হলো

গরমে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিব

পানি পান করুনঃ পানি শুধু শরীরে আর্দ্রতা জোগায় না, ত্বককে করে তোলে সজীব। তাই ত্বক সুন্দর রাখতে এ সময়ে প্রচুর পানি পান করুন।

টোনার ব্যবহার করুনঃ টোনার ত্বকের রোমকূপ বন্ধ ও ত্বককে শীতল রাখতে সাহায্য করে। বাজার থেকে ভালো কোম্পানির টোনার দেখে কিনুন। ঘরোয়া টোনার হিসেবে গোলাপজল ভালো কাজ করে।

ওয়াটার বেজ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুনঃ গরমের সময়ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করবেন না। কারণ ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি ত্বককে নরম রাখে। তবে গরমের সময় ওয়াটার বেজ ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন ত্বকের যত্নে।

ত্বক পরিষ্কার রাখুনঃ সকালে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করুন। যদি এমন হয় সারা দিন বাইরে বের হননি তবুও রুটিন করে ত্বক পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

ত্বককে আরো বেশি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত এগুলো ব্যবহার করুন

বয়সের ছাপ সবার আগে আমাদের ত্বকেই পড়ে। মুখ থেকে শুরু করে স্তন, বাহু, পেট ইত্যাদি শরীরের সকল স্পর্শ কাতর অঙ্গে আগে দেখা যায় বয়সের ছাপ। ভাবছেন বয়স্কে রুখে দেয়ার কোন উপায় নেই? আছে বৈকি! বয়স হয়েছে বলেই চেহারায় ও শরীরে সেই ছাপ বহন করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি চাইলে ঘরে বসে খুব সহজ কিছু উপায়েই আপনার কুঁচকে ও ঝুলে যাওয়া ত্বককে করে ফেলতে পারেন অনেকটাই টান টান ও যৌবন দীপ্ত। কীভাবে? চলুন, জেনে নিই তিনটি জাদুকরী কৌশল।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা আমাদের অসংখ্য ত্বকের সমস্যার জন্য একটি চমৎকার উপাদান। অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক ভাবেই আপনার কুঁচকে ও ঝুলে যাওয়া ত্বকের বলিরেখা দূর করে একে করে তোলে টান টান। আপনি মুখ থেকে শুরু করে স্তন, বাহু, পেট বা শরীরের যে কোন স্থানে ব্যবহার করতে পারবেন এই অ্যালোভেরা জেল। তাজা অ্যালোভেরা জেল মাখুন শরীরের সমস্যা আক্রান্ত এলাকায়। আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। আপনি চাইলে সম্পূর্ণ শরীরই এই জেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। ম্যাসাজ করা হলে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। বাজারের প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা
জেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে সদ্য গাছ থেকে সংগ্রহ করা জেল হলে ফল পাবেন খুবই দ্রুত। আর হ্যাঁ, রোজ ব্যবহার করবেন।

গোলাপ জল

অসাধারণ এই উপাদানটি আপনার সৌন্দর্যের বন্ধু। গোলাপ জল আপনার ত্বককে টানটান করে ও বলিরেখা ও রোমকূপকে অদৃশ্য রেখে আপনাকে করে তোলে লাবণ্যময়। রাতের বেলা শরীরের প্রয়োজনীয় স্থানে তুলো দিয়ে গোলাপ জল লাগান। চাইলে গোলাপ জল দিয়ে স্থানটি ধুয়েও নিতে পারেন। তারপর স্থানবতি শুকিয়ে গেলে এভাবেই রাখুন সারা রাত। সকালে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। তবে এক্ষেত্রে ১০০ ভাগ বিশুদ্ধ গোলাপ জল হতে হবে। চিন্তা নেই, সাধারণ এই জিনিসটি আপনি তৈরি করতে পারবেন বাড়িতেই!

ডিমের সাদা অংশ

দুটি ডিমের সাদা অংশ নিন, একে ভালো করে বিট করে ফোম করে নিন। তারপর মুখ সহ অন্যান্য স্থানে মাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩/৪ বার নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠবে টান টান।

কিভাবে আমরা নখের যত্ন নিতে পারি

কিভাবে আমরা নখের যত্ন নিতে পারি

হাত পায়ের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নখ। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো নখের যত্ন নেওয়াও অতন্ত্য জরুরি।

হাতের নখের দিকে সময়ে সময়ে নজর দেওয়া হলেও পায়ের নখ যেন পায়ের মতোই অবহেলায় রয়ে যায়।
বিশেষত যাদের নিত্যদিন বাইরে চলাচল করা প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে পায়ের নখের যত্ন নেওয়া বেশি জরুরী। বাইরে থেকে ফিরেই পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার সাথে নজর দিতে হবে পায়ের নখের দিকেও। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনগুলোতে নখে কাদা লেগে যায়।

ধুলাবালি নখের ভেতর প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন পায়ের নখ অপরিষ্কার রাখা হলে নখে জীবাণু জমে ফাঙ্গাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে নখ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে রাখা প্রয়োজন পায়ের নখের যত্নে কী করতে হবে।

বাড়িতে কিভাবে আমরা নখের যত্ন নিতে পারি:

১। লেবু

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি আপনার নখের হলদে ভাব দূর করে এবং প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল  করে তোলে| লেবুর রসের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটু হালকা গরম করে তাতে আপনার নখ চুবিয়ে রাখুন| ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন| এছাড়া হাত ও পায়ের নখে লেবু দিয়ে হালকা ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ময়্স্চারাইসার লাগিয়ে নিন| নিয়মিত লেবুর ব্যবহার আপনার নখের যে কোনো রকম সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম|

২। নারকেল তেল

নারকেল তেল নখ কে ময়্স্চারাইস করে,এটি নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি তে সাহায্য করে| এছাড়া নখের যে কোনো ফাংগাল ইনফেকশন সহজেই সরিয়ে তোলে| নারকেল তেল ও মধু হালকা গরম করে হাতে ও পায়ের নখে ভালো করে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন| এতে ব্লাড সার্কুলেশন স্বাভাবিক থাকে এবং আপনার নখ ভালো থাকে|

২। বায়োটিন

বায়োটিন বা ভিটামিন এইচ আমাদের নখের জন্য অত্যন্ত জরুরি, তাই বায়োটিন যুক্ত খাবার যেমন ডিম, শশা, টমেটো, দুধ, আলমন্ড, গাজর, সয়াবিন ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া উচিত| এছাড়া প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ মত বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন|

৪। ডিমের কুসুম ও দুধ

প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে আমাদের নখে নানা ধরনের সমস্যা হয়| তাই এই দুটি উপাদান আমাদের নখের যত্ন নিতে সাহায্য করে| এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম ও দুধের মিশ্রন অত্যন্ত কার্যকরী| এই দুটি উপাদান মিশিয়ে  হাতে ও পায়ের নখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন| পরে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন| এতে নখের হলদে ভাব দূর হয় ও নখ ভালো থাকবে|

৫। পেট্রোলিয়াম জেলি

পেট্রোলিয়াম জেলি সবথেকে সহজ উপায় আপনার নখ ভালো রাখার| রাতে শুতে যাবার আগে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন হাতে ও পায়ের নখে লাগিয়ে নিন| কিছু দিনের মধ্যেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন|

নখ ত্বকেরই একটি অংশ। ত্বক যেমন কেরাটিন দিয়ে তৈরি নখও শক্ত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। নখে অনেক রোগ সৃষ্টি হতে পারে, তেমনি নখ দেখে অনেক রোগ চেনাও যায়। ফুসফুস ও হার্টের অসুখ ও রক্তস্বল্পতায় নখের অনেক পরিবর্তন হয়।

***নখে রোগ হলে চেনার উপায়

মনে রাখবেন আপনার সুন্দর নখ কিন্তু আপনার হাত ও পায়ের সৌন্দর্য্য কে বাড়িয়ে তোলে। তাই নখের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি| খারাপ বা অসুস্থ নখের অবহেলা আপনার পক্ষ্যে মারাত্মক হতে পারে| তাই এখন থেকে বাড়িতে বসেই নখের যত্ন নিতে এই ঘরোয়া উপায় গুলি ব্যবহার করুন|

নখ ত্বকেরই একটি অংশ। ত্বক যেমন কেরাটিন দিয়ে তৈরি নখও শক্ত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। নখে অনেক রোগ সৃষ্টি হতে পারে, তেমনি নখ দেখে অনেক রোগ চেনাও যায়। ফুসফুস ও হার্টের অসুখ ও রক্তস্বল্পতায় নখের অনেক পরিবর্তন হয়।

নখে সাদা দাগ- ফাঙ্গাসের আক্রমণে নখে সাদা দাগ হয়ে থাকে। নখের পাশের ত্বকে ফাঙ্গাস আক্রমণের কারণেও নখে সাদা দাগ হতে পারে। মাসখানেকের মধ্যে সাদা দাগ আপনা আপনি চলে না গেলে ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

নখ ভেঙে যাওয়া- বেশি সাবান ব্যবহার, নেইলপলিশ ব্যবহার থেকে নখ ভেঙে যেতে পারে। অনেকের নখ মোটা হয়ে হলুদ হয়েও খসে পড়ে। এটি এক ধরনের ছত্রাক দিয়ে হয়। এতে নখের সম্মুখ অংশ ও পেছনে চামড়ার সঙ্গে লাগানো অংশ আক্রান্ত হয়।

নখে ক্যান্সার- নখে মেলালোমা নামক ক্যান্সার হতে পারে, এতে নখে লম্বা লম্বা কালো দাগ পড়ে।

নখের পেছনের অংশ ফুলে ব্যথা হওয়া- যারা খুব পানির সংস্পর্শে আসে এবং রান্নাবান্না করে ও কাপড় কাচে যেমন গৃহবধূদের এ সমস্যা বেশি হয়। একে প্যারোনাইকিয়া বলে। হঠাৎ করে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণেও হতে পারে। অ্যান্টি ফাঙ্গাল ট্যাবলেট ও মলম লাগাতে হয়।

তাই এই রোগ গুলো থেকে নখকে সুরক্ষিত রাখতে উপরের নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে। তবেই নখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যাবে।

পেঁয়াজের রসের উপকারিতা কি

পেঁয়াজের রসের উপকারিতা কি

দৈনন্দিন জীবনে পেঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম। রান্নার কাজে ছাড়াও আরও অনেক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় পেঁয়াজ। পেঁয়াজ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’তে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ।

তাই খাবারে পেয়াজের ব্যবহার অনন্য। তাই কাঁচা পেঁয়াজ রোজ একটু হলেও খেতে বলেন পুষ্টিবিদরা।

পেঁয়াজের রসের উপকারিতা কি জেনে রাখুন পেঁয়াজের উপকারিতা

 
১.‌‌ যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি করে:‌ মানুষের যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি করে পেঁয়াজ। প্রতিদিন এক টেবিল চামচ পেঁয়াজ ও এক চামচ আদার রস মিশিয়ে খেয়ে নিন। দিনে তিনবার। আপনার যৌন ইচ্ছা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। 


২.‌ কাশিতে উপকারি:‌ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন পরিমাণমতো পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে সর্দি–কাশির সমস্যা থাকে না। 


৩.‌‌ অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা রোধ:‌ অ্যানিমিয়া রোধে পেঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন পেঁয়াজ খান, গুঁড় ও জল সহযোগে। এর ফলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। শরীরে নতুন রক্ত তৈরিতে আয়রনের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।


৪.‌ ক্যান্সার রোধ করে:‌ প্রতিদিন পেঁয়াজ খেলে ক্যান্সার রোধ করা সম্ভব। ক্যান্সার কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যা রোধে প্রতিদিন পেঁয়াজ খান। দেখবেন শরীরে একটা ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ তৈরি হয়ে যাবে।


৫.‌ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে:‌ পেঁয়াজে ক্রোমিয়াম থাকে। যা ব্ল্যাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরকে ঠান্ডা রাখে। 


৬.‌‌ রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ:‌ নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে রক্ত চলাচল ঠিকঠাক থাকে। যার ফলে হার্টের অসুখের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।


৭.‌‌ দাঁতের সংক্রমণ রোধ:‌ দাঁতের সংক্রমণ রোধ করতেও পেঁয়াজের জুরি মেলা ভার। ২–৩ মিনিট পেঁয়াজ চিবিয়ে খান। ফলে দাঁতে লুকিয়ে থাকা জীবাণুগুলো মরে যাবে। সংক্রমণের সম্ভাবনাও কমবে। 

সর্বোপরি পেয়াজ একটি খুবই উপকারী দেশীয় এবং সহজলভ্য মসলা।