কিভাবে আমরা নখের যত্ন নিতে পারি

কিভাবে আমরা নখের যত্ন নিতে পারি

হাত পায়ের অন্যতম সৌন্দর্য হলো নখ। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো নখের যত্ন নেওয়াও অতন্ত্য জরুরি।

হাতের নখের দিকে সময়ে সময়ে নজর দেওয়া হলেও পায়ের নখ যেন পায়ের মতোই অবহেলায় রয়ে যায়।
বিশেষত যাদের নিত্যদিন বাইরে চলাচল করা প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে পায়ের নখের যত্ন নেওয়া বেশি জরুরী। বাইরে থেকে ফিরেই পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার সাথে নজর দিতে হবে পায়ের নখের দিকেও। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনগুলোতে নখে কাদা লেগে যায়।

ধুলাবালি নখের ভেতর প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন পায়ের নখ অপরিষ্কার রাখা হলে নখে জীবাণু জমে ফাঙ্গাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে নখ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে রাখা প্রয়োজন পায়ের নখের যত্নে কী করতে হবে।

বাড়িতে কিভাবে আমরা নখের যত্ন নিতে পারি:

১। লেবু

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি আপনার নখের হলদে ভাব দূর করে এবং প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল  করে তোলে| লেবুর রসের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটু হালকা গরম করে তাতে আপনার নখ চুবিয়ে রাখুন| ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন| এছাড়া হাত ও পায়ের নখে লেবু দিয়ে হালকা ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ময়্স্চারাইসার লাগিয়ে নিন| নিয়মিত লেবুর ব্যবহার আপনার নখের যে কোনো রকম সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম|

২। নারকেল তেল

নারকেল তেল নখ কে ময়্স্চারাইস করে,এটি নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি তে সাহায্য করে| এছাড়া নখের যে কোনো ফাংগাল ইনফেকশন সহজেই সরিয়ে তোলে| নারকেল তেল ও মধু হালকা গরম করে হাতে ও পায়ের নখে ভালো করে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন| এতে ব্লাড সার্কুলেশন স্বাভাবিক থাকে এবং আপনার নখ ভালো থাকে|

২। বায়োটিন

বায়োটিন বা ভিটামিন এইচ আমাদের নখের জন্য অত্যন্ত জরুরি, তাই বায়োটিন যুক্ত খাবার যেমন ডিম, শশা, টমেটো, দুধ, আলমন্ড, গাজর, সয়াবিন ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া উচিত| এছাড়া প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ মত বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন|

৪। ডিমের কুসুম ও দুধ

প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে আমাদের নখে নানা ধরনের সমস্যা হয়| তাই এই দুটি উপাদান আমাদের নখের যত্ন নিতে সাহায্য করে| এক্ষেত্রে ডিমের কুসুম ও দুধের মিশ্রন অত্যন্ত কার্যকরী| এই দুটি উপাদান মিশিয়ে  হাতে ও পায়ের নখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন| পরে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন| এতে নখের হলদে ভাব দূর হয় ও নখ ভালো থাকবে|

৫। পেট্রোলিয়াম জেলি

পেট্রোলিয়াম জেলি সবথেকে সহজ উপায় আপনার নখ ভালো রাখার| রাতে শুতে যাবার আগে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন হাতে ও পায়ের নখে লাগিয়ে নিন| কিছু দিনের মধ্যেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন|

নখ ত্বকেরই একটি অংশ। ত্বক যেমন কেরাটিন দিয়ে তৈরি নখও শক্ত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। নখে অনেক রোগ সৃষ্টি হতে পারে, তেমনি নখ দেখে অনেক রোগ চেনাও যায়। ফুসফুস ও হার্টের অসুখ ও রক্তস্বল্পতায় নখের অনেক পরিবর্তন হয়।

***নখে রোগ হলে চেনার উপায়

মনে রাখবেন আপনার সুন্দর নখ কিন্তু আপনার হাত ও পায়ের সৌন্দর্য্য কে বাড়িয়ে তোলে। তাই নখের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি| খারাপ বা অসুস্থ নখের অবহেলা আপনার পক্ষ্যে মারাত্মক হতে পারে| তাই এখন থেকে বাড়িতে বসেই নখের যত্ন নিতে এই ঘরোয়া উপায় গুলি ব্যবহার করুন|

নখ ত্বকেরই একটি অংশ। ত্বক যেমন কেরাটিন দিয়ে তৈরি নখও শক্ত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। নখে অনেক রোগ সৃষ্টি হতে পারে, তেমনি নখ দেখে অনেক রোগ চেনাও যায়। ফুসফুস ও হার্টের অসুখ ও রক্তস্বল্পতায় নখের অনেক পরিবর্তন হয়।

নখে সাদা দাগ- ফাঙ্গাসের আক্রমণে নখে সাদা দাগ হয়ে থাকে। নখের পাশের ত্বকে ফাঙ্গাস আক্রমণের কারণেও নখে সাদা দাগ হতে পারে। মাসখানেকের মধ্যে সাদা দাগ আপনা আপনি চলে না গেলে ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

নখ ভেঙে যাওয়া- বেশি সাবান ব্যবহার, নেইলপলিশ ব্যবহার থেকে নখ ভেঙে যেতে পারে। অনেকের নখ মোটা হয়ে হলুদ হয়েও খসে পড়ে। এটি এক ধরনের ছত্রাক দিয়ে হয়। এতে নখের সম্মুখ অংশ ও পেছনে চামড়ার সঙ্গে লাগানো অংশ আক্রান্ত হয়।

নখে ক্যান্সার- নখে মেলালোমা নামক ক্যান্সার হতে পারে, এতে নখে লম্বা লম্বা কালো দাগ পড়ে।

নখের পেছনের অংশ ফুলে ব্যথা হওয়া- যারা খুব পানির সংস্পর্শে আসে এবং রান্নাবান্না করে ও কাপড় কাচে যেমন গৃহবধূদের এ সমস্যা বেশি হয়। একে প্যারোনাইকিয়া বলে। হঠাৎ করে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণেও হতে পারে। অ্যান্টি ফাঙ্গাল ট্যাবলেট ও মলম লাগাতে হয়।

তাই এই রোগ গুলো থেকে নখকে সুরক্ষিত রাখতে উপরের নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে। তবেই নখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যাবে।

Leave a Comment